করোনার ভয়, যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি ছাড়ার হিড়িক

উত্তর আমেরিকা অফিস
১৪ অক্টোবর ২০২১, রাত ৩:২১ সময়
ছবি: রয়টার্স

গোটা দেশে গণহারে কোভিডের টিকাদান কার্যক্রম চালুর পর নিয়ন্ত্রণে এসেছিল করোনা। তবে এখন ফের বাড়তে শুরু করেছে মারণ এ ভাইরাসের ছোবল। বেশ কিছুদিন ধরেই আক্রান্ত ও মৃত্যুতে বিশ্বে শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র। এখন করোনা নিয়ন্ত্রণে বুস্টার ডোজ দেয়া হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতেও টিকা নিতেও অনাগ্রহী অনেক মার্কিন নাগরিক।

এমনকি টিকার বাধ্যবাধকতা এড়াতে প্রয়োজনে চাকরি ছেড়ে দিতেও রাজি আছেন কেউ কেউ। যার প্রভাব  পড়েছে শ্রমবাজারে। করোনা টিকা নেয়ার বাধ্যবাধকতা জারি হতে না হতেই চাকরি ছাড়ার হিড়িক পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রে।

গত আগস্ট মাসে ৪৩ লাখের বেশি চাকরিজীবী চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির শ্রম বিভাগের জব ওপেনিংস অ্যান্ড লেবার টার্নওভার সার্ভে (জেওএলটিএস)।

ওয়াশিংটন পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, চাকরি ছাড়ার এই সংখ্যা আগের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মোট কর্মীদের মধ্যে এই সংখ্যা ২ দশমিক ৯ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রে গত আগস্টে চাকরির বিজ্ঞাপন ১০ কোটি ৪ লাখে নেমে এসেছে। এর আগের মাসে এই সংখ্যা কিছুটা বেশি ছিল। গত জুলাই মাসে এই সংখ্যা ছিল ১১ কোটি ১ লাখ।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যেসব কর্মীরা চাকরি ছেড়ে দিচ্ছেন এর বেশিরভাগই করোনাভাইরাসের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থেকে। বাসস্থান এবং খাদ্য সহায়তার কাজে নিয়োজিত কর্মী যাদের সরাসরি ক্রেতাদের মুখোমুখি হতে হয়- এমন প্রায় ৮ লাখ ৯২ হাজার কর্মী আগস্টে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার কারণে চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন।

চলতি বছররের জুলাই মাসের তুলনায় আগস্টে ১ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি মানুষ চাকরি ছেড়েছেন। দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে তাই ভ্যাকসিনের ওপরই জোর দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন দেশটির চাকরিদাতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা যেন তাদের কর্মীদের আলটিমেটাম দেয়, হয় টিকা নাও নয় চাকরি হারাও। বাইডেন বলেছেন, তিনি খুব শিগগিরই একটা আদেশ জারি করবেন যেখানে সব স্বাস্থ্যকর্মীর জন্য টিকা নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হবে। দেশটির রাজ্যগুলোর প্রতিও তিনি একই আহ্বান জানিয়েছেন।

স্বাস্থ্যকর্মী ও শিক্ষকদের টিকা নেওয়া বাধ্যতামূলক করতে নির্দেশ জারি করার কথাও জানিয়েছেন বাইডেন।

এর আগে বাধ্যতামূলক টিকা গ্রহণের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। নিউ হ্যাম্পশায়ার অঙ্গরাজ্যের কনকর্ড এলাকায় হাসপাতালের পোশাক পরে বিক্ষোভে যোগ দেন কিছুসংখ্যক স্বাস্থ্যকর্মীও। বিক্ষোভে কিছু লোককে হাসপাতালের পোশাক পরা অবস্থায় দেখা গেছে।

হাম্পশায়ারের আপার কানেকটিকাট ভ্যালি হাসপাতালের পরিচালকরা ইতোমধ্যে তাদের কর্মীদের জন্য টিকা নেওয়া বাধ্যতামূলক করেছেন এবং বলেছেন, টিকায় মূলত রোগীরা নিরাপদ বোধ করেন।

তবে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে চলমান বিতর্ক ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র যখন হিমশিম খাচ্ছে, তখন পরিসংখ্যান বলছে, এখনো দৈনিক প্রায় দেড় হাজার আমেরিকানের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে ভাইরাস।

যেভাবে আটক হল আলোচিত যুবক ইকবাল হোসেন

আওয়াজবিডি ডেস্ক
২২ অক্টোবর ২০২১, দুপুর ৪:২৪ সময়

ছাত্রলীগ কর্মী ও চৌমুহনী সরকারি এসএ কলেজের ব্যবস্থাপনা বিষয়ের মাস্টার্সের ছাত্র অনিক রহমান দাবি করেন, ‘আমি ও বন্ধু মেহেদী হাসান মিশু এবং সাইফুল ইসলাম সাইফ মিলে ইকবালকে ধরিয়ে দিয়েছি।’ ওই তিনজনকে ছাত্রলীগের কর্মী বলে নিশ্চিত করেছেন নোয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আসাদুজ্জামান।

এদিকে ছাত্রলীগ কর্মীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লা ও কক্সবাজার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে ইকবালকে ধরা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন নোয়াখালীর (বেগমগঞ্জ সার্কেল) এএসপি শাহ ইমরান। তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ছাত্রলীগ কর্মী অনিক ও মিশু আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে ইকবালের তথ্য দেন। তারা ইকবালকে ধরিয়ে দিতে সহায়তা চান। পরে আমি কুমিল্লা ও কক্সবাজারের পুলিশের সঙ্গে ইকবালকে গ্রেপ্তারের জন্য যোগাযোগ করি।’

ইকবালকে গ্রেপ্তারের ঘটনা বলতে গিয়ে ছাত্রলীগ কর্মী অনিক বলেন, ‘গত ১৯ অক্টোবর রাতে বন্ধু মেহেদি হাসান মিশু ও ঢাকার তিন ব্যবসায়ী বন্ধু রায়হান, মামুন ও হৃদয়সহ পাঁচজন কক্সবাজার বেড়াতে যাই। বৃহস্পতিবার সকালে সেখানে থাকা আরেক বন্ধু সাইফুল ইসলাম সাইফ আমাদের সঙ্গে যোগ দেন। এরপর বিকাল ৪টায় দরিয়ানগরে ঘুরতে বের হই। সেখানে ছয় বন্ধু মিলে সময় কাটাতে গান গাওয়ার সময় ইকবালও পাশে এসে গানে সুর মেলায়। এরপর ওই রাতে টেলিভিশনে এবং ফেসবুকে ছবি দেখে ইকবালের বিষয়ে নিশ্চিত হই।’

এসএ কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র এবং ছাত্রলীগ কর্মী মেহেদী হাসান মিশু বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতে তারা সুগন্ধা পয়েন্টে গেলে ইকবালের সঙ্গে তাদের আবার দেখা হয়। তখন আমরা তার সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলি। এক পর্যায়ে সে পালিয়ে যেতে চাইলে, তাকে নাস্তা ও সিগারেট খাইয়ে কৌশলে আটকে রাখি। এ সময় তার নাম জানতে চাইলে, সে ইকবাল বলে জানায়।

তখন আমরা কৌশলে তার ছবি তুলি নোয়াখালীর এএসপির সঙ্গে যোগাযোগ করি ও ছবি পাঠাই। তিনি আমাদের কুমিল্লার পুলিশ সুপারের মোবাইল নম্বর দেন। এরপর কুমিল্লার পুলিশ সুপারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ছবি পাঠাই। তিনি কক্সবাজারের পুলিশ সুপারকে বিষয়টি অবহিত করেন। পরবর্তীতে রাত সাড়ে ১০টায় পুলিশ এসে ইকবালকে আটক করে নিয়ে যায়।’

এর আগে, কুমিল্লার পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রাখার ঘটনায় ১৬ মিনিট ৫২ সেকেন্ডের একটি সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজ গণমাধ্যমের কাছে আসে। সেখানে দেখা যায়, অভিযুক্ত ইকবাল হোসেন মসজিদ থেকে কীভাবে কোরআন নিয়ে বের হয়ে পূজামণ্ডপের দিকে যান এবং মণ্ডপ থেকে হনুমানের গদা হাতে নিয়ে ফেরেন।

হাবিব/আওয়াজবিডি/ইউএস