ফেসবুকের গোপন কালো তালিকায় বাংলাদেশের ৬ জঙ্গি সংগঠন ও ১ ব্যক্তি

আওয়াজবিডি ডেস্ক
১৪ অক্টোবর ২০২১, রাত ১২:৩৭ সময়
ফাইল ছবি

ফেসবুকের ডেঞ্জারাস ইন্ডিভিজুয়ালস অ্যান্ড অর্গানাইজেশন্স (ডিআইও) নীতির আওতায় ‌‘বিপজ্জনক’ ব্যক্তি ও সংগঠনকে গোপন কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশে অপারেশন চালাচ্ছে অথবা সক্রিয় এমন ৬টি জঙ্গি সংগঠন ও এক ব্যক্তিকে গোপন কালো তালিকাভুক্ত করেছে ফেসবুক।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্টারসেপ্ট ফেসবুকের অভ্যন্তরীণ এই গোপন কালো তালিকার নথিপত্র হাতে পেয়েছে।

ফেসবুকের করা গোপন তালিকায় বাংলাদেশের যে ছয় জঙ্গি সংগঠনের নাম রয়েছে। সেগুলো হলো—

আল মুরসালাত মিডিয়া, ইসলামিক স্টেট বাংলাদেশ, হরকাত উল-জিহাদ-ই-ইসলামী বাংলাদেশ, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম, জামায়াত উল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) ও সাহাম আল-হিন্দ মিডিয়া।

ফেসবুক বলছে, সাহাম আল-হিন্দ মিডিয়ার সঙ্গে জামায়াত উল মুজাহিদিন বাংলাদেশের এবং আল মুরসালাত মিডিয়ার সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের সম্পর্ক রয়েছে।

ফেসবুকের বিপজ্জনক ব্যক্তির তালিকায় এক বাংলাদেশির নামও রয়েছে। তরিকুল ইসলাম নামে ওই বাংলাদেশির সঙ্গে জামায়াত উল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) সম্পর্ক আছে বলে জানিয়েছে ফেসবুক। তবে ওই ব্যক্তির ব্যাপারে বিস্তারিত আর কোনও তথ্য জানানো হয়নি।

দ্য ইন্টারসেপ্ট ফেসবুকের গোপন কালো তালিকাভুক্ত সব সংগঠন এবং ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেছে। এই তালিকায় ঠাঁই পাওয়া সব সংগঠন এবং ব্যক্তি বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এই প্ল্যাটফর্মে নিষিদ্ধ।

ফেসবুক বলেছে, সন্ত্রাসী এবং জঙ্গি সংগঠনগুলোর মতো যারা অফলাইনে মারাত্মক ক্ষতিকর কাজ করতে পারেন, তাদেরকে কালো তালিকার প্রথম স্তরে রাখে ফেসবুক। এমন কমপক্ষে ৪ হাজার ব্যক্তি ও গ্রুপের একটি তালিকা করেছে তারা।

এর মধ্যে দাতব্য সংস্থা, হাসপাতাল, লেখক, কয়েকশ সংগীতশিল্পী, রাজনীতিক এবং প্রয়াত ঐতিহাসিক ব্যক্তিদেরও নাম আছে। তাদের বিপজ্জনক হিসেবে মনে করে ফেসবুক।

ফেসবুক সন্ত্রাসী, জঙ্গি সংগঠনগুলোকে অপপ্রচার চালাতে সহায়তা করে আসছে এমন দীর্ঘ অভিযোগ থেকে রেহাই পেতে ফেসবুক এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

যেভাবে আটক হল আলোচিত যুবক ইকবাল হোসেন

আওয়াজবিডি ডেস্ক
২২ অক্টোবর ২০২১, দুপুর ৪:২৪ সময়

ছাত্রলীগ কর্মী ও চৌমুহনী সরকারি এসএ কলেজের ব্যবস্থাপনা বিষয়ের মাস্টার্সের ছাত্র অনিক রহমান দাবি করেন, ‘আমি ও বন্ধু মেহেদী হাসান মিশু এবং সাইফুল ইসলাম সাইফ মিলে ইকবালকে ধরিয়ে দিয়েছি।’ ওই তিনজনকে ছাত্রলীগের কর্মী বলে নিশ্চিত করেছেন নোয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আসাদুজ্জামান।

এদিকে ছাত্রলীগ কর্মীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লা ও কক্সবাজার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে ইকবালকে ধরা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন নোয়াখালীর (বেগমগঞ্জ সার্কেল) এএসপি শাহ ইমরান। তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ছাত্রলীগ কর্মী অনিক ও মিশু আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে ইকবালের তথ্য দেন। তারা ইকবালকে ধরিয়ে দিতে সহায়তা চান। পরে আমি কুমিল্লা ও কক্সবাজারের পুলিশের সঙ্গে ইকবালকে গ্রেপ্তারের জন্য যোগাযোগ করি।’

ইকবালকে গ্রেপ্তারের ঘটনা বলতে গিয়ে ছাত্রলীগ কর্মী অনিক বলেন, ‘গত ১৯ অক্টোবর রাতে বন্ধু মেহেদি হাসান মিশু ও ঢাকার তিন ব্যবসায়ী বন্ধু রায়হান, মামুন ও হৃদয়সহ পাঁচজন কক্সবাজার বেড়াতে যাই। বৃহস্পতিবার সকালে সেখানে থাকা আরেক বন্ধু সাইফুল ইসলাম সাইফ আমাদের সঙ্গে যোগ দেন। এরপর বিকাল ৪টায় দরিয়ানগরে ঘুরতে বের হই। সেখানে ছয় বন্ধু মিলে সময় কাটাতে গান গাওয়ার সময় ইকবালও পাশে এসে গানে সুর মেলায়। এরপর ওই রাতে টেলিভিশনে এবং ফেসবুকে ছবি দেখে ইকবালের বিষয়ে নিশ্চিত হই।’

এসএ কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র এবং ছাত্রলীগ কর্মী মেহেদী হাসান মিশু বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতে তারা সুগন্ধা পয়েন্টে গেলে ইকবালের সঙ্গে তাদের আবার দেখা হয়। তখন আমরা তার সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলি। এক পর্যায়ে সে পালিয়ে যেতে চাইলে, তাকে নাস্তা ও সিগারেট খাইয়ে কৌশলে আটকে রাখি। এ সময় তার নাম জানতে চাইলে, সে ইকবাল বলে জানায়।

তখন আমরা কৌশলে তার ছবি তুলি নোয়াখালীর এএসপির সঙ্গে যোগাযোগ করি ও ছবি পাঠাই। তিনি আমাদের কুমিল্লার পুলিশ সুপারের মোবাইল নম্বর দেন। এরপর কুমিল্লার পুলিশ সুপারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ছবি পাঠাই। তিনি কক্সবাজারের পুলিশ সুপারকে বিষয়টি অবহিত করেন। পরবর্তীতে রাত সাড়ে ১০টায় পুলিশ এসে ইকবালকে আটক করে নিয়ে যায়।’

এর আগে, কুমিল্লার পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রাখার ঘটনায় ১৬ মিনিট ৫২ সেকেন্ডের একটি সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজ গণমাধ্যমের কাছে আসে। সেখানে দেখা যায়, অভিযুক্ত ইকবাল হোসেন মসজিদ থেকে কীভাবে কোরআন নিয়ে বের হয়ে পূজামণ্ডপের দিকে যান এবং মণ্ডপ থেকে হনুমানের গদা হাতে নিয়ে ফেরেন।

হাবিব/আওয়াজবিডি/ইউএস