হাসপাতালে মনমোহন সিং

আওয়াজবিডি ডেস্ক
১৩ অক্টোবর ২০২১, রাত ৯:২৪ সময়

কংগ্রেস সূত্রের বরাত দিয়ে ইন্ডিয়া টুডে বলেছে, গত দু’দিন ধরে কংগ্রেসের এই নেতার শরীরে মৃদু জ্বর দেখা যাচ্ছে। যে কারণে উন্নত চিকিৎসা সেবার জন্য তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তিনি এআইআইএমএসের কার্ডিও-নিউরো টাওয়ারে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নীতিশ নায়কের তত্ত্বাবধানে আছেন। বর্তমানে তার কয়েকটি মেডিক্যাল টেস্ট চলছে।

এদিকে, অল ইন্ডিয়া কংগ্রেসের যোগাযোগবিষয়ক ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি প্রণব ঝা টুইটারে বলেছেন, মনমোহন সিংয়ের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।

তিনি বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের শারীরিক অবস্থা নিয়ে কিছু গুজব ছড়িয়েছে। তিনি স্থিতিশীল আছেন। তার নিয়মিত চিকিৎসা চলছে। যেকোনও ধরনের হালনাগাদ তথ্য আমরা সবাইকে জানিয়ে দেব।

চলতি বছরের এপ্রিলের দিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর কংগ্রেসের প্রবীণ এই নেতাকে দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেসে ভর্তি করা হয়। করোনার মৃদু সংক্রমণে ভোগার পর তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন।

বুকে অস্বাভাবিক রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ায় গত বছরের মে মাসে সাবেক এই ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে এআইআইএমএসে ভর্তি করা হয়েছিল। সেই সময়ও তিনি চিকিৎসক নীতিশ নায়কের তত্ত্বাবধানে ছিলেন।

তার আগে, ২০০৯ সালে দিল্লির এআইআইএমএসে মনমোহন সিংয়ের সফল করোনারি বাইপাস সার্জারি সম্পন্ন হয়। মনমোহন সিং ১৯৭১ সালে ভারত সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অর্থনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে প্রথম যোগদান করেন।

পরে তিনি ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত ভারতের অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ সালে তিনি ভারতের ১৪তম প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি রাজ্যসভার সদস্য। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে।

ইব্রাহিম/আওয়াজবিডি

যেভাবে আটক হল আলোচিত যুবক ইকবাল হোসেন

আওয়াজবিডি ডেস্ক
২২ অক্টোবর ২০২১, দুপুর ৪:২৪ সময়

ছাত্রলীগ কর্মী ও চৌমুহনী সরকারি এসএ কলেজের ব্যবস্থাপনা বিষয়ের মাস্টার্সের ছাত্র অনিক রহমান দাবি করেন, ‘আমি ও বন্ধু মেহেদী হাসান মিশু এবং সাইফুল ইসলাম সাইফ মিলে ইকবালকে ধরিয়ে দিয়েছি।’ ওই তিনজনকে ছাত্রলীগের কর্মী বলে নিশ্চিত করেছেন নোয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আসাদুজ্জামান।

এদিকে ছাত্রলীগ কর্মীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লা ও কক্সবাজার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে ইকবালকে ধরা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন নোয়াখালীর (বেগমগঞ্জ সার্কেল) এএসপি শাহ ইমরান। তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ছাত্রলীগ কর্মী অনিক ও মিশু আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে ইকবালের তথ্য দেন। তারা ইকবালকে ধরিয়ে দিতে সহায়তা চান। পরে আমি কুমিল্লা ও কক্সবাজারের পুলিশের সঙ্গে ইকবালকে গ্রেপ্তারের জন্য যোগাযোগ করি।’

ইকবালকে গ্রেপ্তারের ঘটনা বলতে গিয়ে ছাত্রলীগ কর্মী অনিক বলেন, ‘গত ১৯ অক্টোবর রাতে বন্ধু মেহেদি হাসান মিশু ও ঢাকার তিন ব্যবসায়ী বন্ধু রায়হান, মামুন ও হৃদয়সহ পাঁচজন কক্সবাজার বেড়াতে যাই। বৃহস্পতিবার সকালে সেখানে থাকা আরেক বন্ধু সাইফুল ইসলাম সাইফ আমাদের সঙ্গে যোগ দেন। এরপর বিকাল ৪টায় দরিয়ানগরে ঘুরতে বের হই। সেখানে ছয় বন্ধু মিলে সময় কাটাতে গান গাওয়ার সময় ইকবালও পাশে এসে গানে সুর মেলায়। এরপর ওই রাতে টেলিভিশনে এবং ফেসবুকে ছবি দেখে ইকবালের বিষয়ে নিশ্চিত হই।’

এসএ কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র এবং ছাত্রলীগ কর্মী মেহেদী হাসান মিশু বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতে তারা সুগন্ধা পয়েন্টে গেলে ইকবালের সঙ্গে তাদের আবার দেখা হয়। তখন আমরা তার সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলি। এক পর্যায়ে সে পালিয়ে যেতে চাইলে, তাকে নাস্তা ও সিগারেট খাইয়ে কৌশলে আটকে রাখি। এ সময় তার নাম জানতে চাইলে, সে ইকবাল বলে জানায়।

তখন আমরা কৌশলে তার ছবি তুলি নোয়াখালীর এএসপির সঙ্গে যোগাযোগ করি ও ছবি পাঠাই। তিনি আমাদের কুমিল্লার পুলিশ সুপারের মোবাইল নম্বর দেন। এরপর কুমিল্লার পুলিশ সুপারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ছবি পাঠাই। তিনি কক্সবাজারের পুলিশ সুপারকে বিষয়টি অবহিত করেন। পরবর্তীতে রাত সাড়ে ১০টায় পুলিশ এসে ইকবালকে আটক করে নিয়ে যায়।’

এর আগে, কুমিল্লার পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রাখার ঘটনায় ১৬ মিনিট ৫২ সেকেন্ডের একটি সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজ গণমাধ্যমের কাছে আসে। সেখানে দেখা যায়, অভিযুক্ত ইকবাল হোসেন মসজিদ থেকে কীভাবে কোরআন নিয়ে বের হয়ে পূজামণ্ডপের দিকে যান এবং মণ্ডপ থেকে হনুমানের গদা হাতে নিয়ে ফেরেন।

হাবিব/আওয়াজবিডি/ইউএস