দেশেই তৈরি হবে বোয়িং ৭৮৭, আশা আশিরের

আওয়াজবিডি ডেস্ক
১৩ অক্টোবর ২০২১, দুপুর ৩:৫৮ সময়

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার উপকূলীয় পুঁইছড়ি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝের পাড়ার ব্যবসায়ী শাহাব উদ্দিনের বড় ছেলে আশির উদ্দিন। এরই মধ্যে তার নানা উদ্ভাবনী কার্যক্রম সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে বেশ সমাদৃত হয়েছে।

উড়োজাহাজ ছাড়াও তিনি তৈরি করেছেন পানিতে চলার উপযোগী এয়ার বোট। তবে আশিরের স্বপ্ন বড় যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ তৈরি করা। নিজের বানানো উড়োজাহাজেই যাত্রী হওয়া।

এখন আমার তৈরি উড়োজাহাজ আকাশে ওড়ে। মানুষ দেখে খুশি হয়। একটা সময় ছিল হাসাহাসি করত সবাই। অনেকগুলো উড়োজাহাজ ওড়ানোর আগেই নষ্ট হয়ে যায়। ছোট ছোট অনেক উড়োজাহাজ নষ্ট হওয়ার পর সফলতা আসে। আগে যারা হাসাহাসি করত এখন তারা উৎসাহ দেয় আরও ভালো কিছু করার জন্য

সম্প্রতি এসব উদ্ভাবনী কাজ সম্পর্কে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, এখন পর্যন্ত যা কিছু করেছেন সবই তার একক প্রচেষ্টায়।

উড়োজাহাজ তৈরির শুরুটা কীভাবে— জানতে চাইলে আশির উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, ছোটবেলা থেকেই উড়োজাহাজসহ বিজ্ঞানবিষয়ক বিভিন্ন জিনিসের প্রতি আমার আগ্রহ। অন্যরা যখন মাঠে খেলাধুলা বা মোবাইলে গেমস খেলে সময় কাটাত, তখন আমি এগুলো নিয়ে পড়ে থাকতাম। বাড়ির ছাদের ওপর দিয়ে যখনই কোনো উড়োজাহাজ যেত, মনে মনে ভাবতাম; আমি যদি উড়োজাহাজ বানাতে পারতাম, আমার তৈরি উড়োজাহাজে ভ্রমণ করতে পারতাম!

এ পর্যন্ত নয়টি মডেলের উড়োজাহাজ তৈরি করেছেন আশির উদ্দিন

চার বছর ধরে উড়োজাহাজ নিয়ে কাজ করছেন তরুণ এ উদ্ভাবক। এখন পর্যন্ত নয়টি মডেলের উড়োজাহাজ তৈরি করেছেন। ড্রিম লাইনার বোয়িং ৭৮৭, ইউএস বাংলা, চেসনা, যুদ্ধবিমান এম ৩৯, মিগ ২৯, এমকিউ ড্রোন, নরমাল ড্রোন, হেলিকপ্টার ও এয়ার বোট রয়েছে তালিকায়

ওই আগ্রহ থেকেই চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গিয়ে উড়োজাহাজের ওঠা-নামা দেখতাম— জানিয়ে আশির বলেন, ‘২০১৭ সাল থেকে উড়োজাহাজ তৈরির কাজ শুরু করি। পড়াশোনার পাশাপাশি যখনই সময় পেতাম তখনই কাজ করতাম। প্রথমদিকে অনেক উড়োজাহাজ ভাঙছে, ক্রাশ খাইছে। নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। ভুল করতে করেত একসময় আমি সফল হই। কারও কাছে প্রশিক্ষণ না নিয়ে নিজেই তৈরি করি একাধিক উড়োজাহাজ।

উড়োজাহাজ তৈরির জন্য আশির উদ্দিনের একটি ছোট ল্যাব রয়েছে। সেখানে বিভিন্ন মডেলের উড়োজাহাজ, ড্রোন এমনকি এয়ার বোটও তৈরি করেছেন তিনি।

আশির উদ্দিন বলেন, ‘উড়োজাহাজ, ড্রোন বা এয়ার বোট— যাই তৈরি করি তা নিয়ে আগে বেশ চিন্তা-ভাবনা করি। এরপর কোন মডেল তৈরি করব ঠিক করার পর কাগজে তার স্কেচ আঁকি, তারপর সেটা নিয়ে কাজ শুরু করি। স্কেচ অনুযায়ী যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করে তা সংযোজনের উপযোগী করি। প্রয়োজনীয় ইলেকট্রিক্যাল কাজ শেষে যন্ত্রপাতি লাগিয়ে তার একটা কাঠামো দেওয়ার চেষ্টা করি।’

এ তরুণ উদ্ভাবক আরও বলেন, এখন আমার তৈরি উড়োজাহাজ আকাশে ওড়ে। মানুষ দেখে খুশি হয়। একটা সময় ছিল হাসাহাসি করত সবাই। অনেকগুলো উড়োজাহাজ ওড়ানোর আগেই নষ্ট হয়ে যায়। ছোট ছোট অনেক উড়োজাহাজ নষ্ট হওয়ার পর সফলতা আসে। আগে যারা হাসাহাসি করত এখন তারা উৎসাহ দেয় আরও ভালো কিছু করার জন্য।

পড়াশোনার পাশাপাশি যখনই সময় পেতাম তখনই কাজ করতাম। প্রথমদিকে অনেক উড়োজাহাজ ভাঙছে, ক্রাশ খাইছে। নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। ভুল করতে করেত একসময় আমি সফল হই। কারও কাছে প্রশিক্ষণ না নিয়ে নিজেই তৈরি করি একাধিক উড়োজাহাজতরুণ উদ্ভাবক আশির উদ্দিন

তিন কেজি ওজনের বোয়িং-৭৮৭ ঘণ্টায় ২৫০ থেকে ৩০০ কিলোমিটার গতিতে উড়তে সক্ষম

‘চার বছর ধরে উড়োজাহাজ নিয়ে কাজ করছি। এখন পর্যন্ত নয়টি মডেলের উড়োজাহাজ তৈরি করেছি। ড্রিম লাইনার বোয়িং ৭৮৭, ইউএস বাংলা, চেসনা, যুদ্ধবিমান এম ৩৯, মিগ ২৯, এমকিউ ড্রোন, নরমাল ড্রোন, হেলিকপ্টার ও এয়ার বোট রয়েছে তালিকায়।’

উদ্ভাবিত উড়োজাহাজগুলো সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার তৈরি ড্রিম লাইনারের ওজন সাড়ে তিন কেজি। এর আগে ইউএস বাংলার আদলে তৈরি উড়োজাহাজের ওজন ছিল আড়াই কেজির মতো। আকাশে ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট উড়তে পারত। যার সর্বোচ্চ রেঞ্জ চার কিলোমিটার, গতিবেগ ঘণ্টায় ২৫০ কিলোমিটার হবে। তিন কেজি ওজনের বোয়িং-৭৮৭ ঘণ্টায় ২৫০ থেকে ৩০০ কিলোমিটার গতিতে উড়তে সক্ষম। রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে এগুলো আকাশে ওড়ানো হয়।’

আশির বলেন, এসব উড়োজাহাজ পরীক্ষামূলকভাবে বাড়ির আশেপাশে উড়িয়ে সফলতা পাই। তা দেখে অনেকে আমার কাছ থেকে উড়োজাহাজ বানিয়ে নেন। এমন প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি উড়োজাহাজ বিক্রি করেছি। প্রতিটির দাম পড়েছে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা করে।

বিক্রির টাকায় উড়োজাহাজ তৈরির খরচ উঠে আসে কিনা— জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রাথমিক খরচ আমার পরিবারই বহন করছে। বিক্রির টাকায় পুরোটা আসে না। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় খরচ অনেক বেশি পড়ে। এ কারণে সরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন। স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছি। সরকারি সহায়তা পেলে দেশেই বোয়িং ৭৮৭ এর মতো উড়োজাহাজ তৈরি করা সম্ভব।’

বাঁশখালীর প্রত্যন্ত এলাকায় বসে উড়োজাহাজ, ড্রোন বা বোট তৈরির সরঞ্জাম সংগ্রহ করা ছিল কঠিন। সব যন্ত্রপাতি একসঙ্গে কিনতে পারতাম না, কারণ এগুলোর দাম খুব বেশি। একটি একটি করে সংগ্রহ করতাম। এখন তো ড্রোনের প্রচলন বেশি। উন্নত টেকনোলজির ড্রোনের যন্ত্রপাতি ঢাকায় পাওয়া যায়। সেসব যন্ত্রপাতি উড়োজাহাজের জন্য আমি কনভার্ট করেছি। ঢাকায় থাকা এক বড় ভাইয়ের মাধ্যমে যন্ত্রপাতিগুলো সংগ্রহ করি— বলেন তরুণ এ উদ্ভাবক।

আমার হাত ধরে বাংলাদেশে একদিন ড্রিম লাইনারের মতো যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ তৈরি হবে। সেই উড়োজাহাজের যাত্রী হব আমি। এছাড়া উড়োজাহাজ তৈরির একটি প্রতিষ্ঠান খোলার স্বপ্ন আছেতরুণ উদ্ভাবক আশির উদ্দিন

আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী— আশির গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমার হাত ধরে বাংলাদেশে একদিন ড্রিম লাইনারের মতো যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ তৈরি হবে। সেই উড়োজাহাজের যাত্রী হব আমি। এছাড়া উড়োজাহাজ তৈরির একটি প্রতিষ্ঠান খোলার স্বপ্ন আছে।’

‘বাংলাদেশে এখনও উড়োজাহাজ তৈরির কোনো প্রতিষ্ঠান নেই। বাইরে থেকে কিনে আনতে হয়। সরকার সহযোগিতা দিলে দেশেই আমরা উড়োজাহাজ তৈরির কারখানা তৈরি করতে পারি। বাইরে থেকে গবেষকও আনার প্রয়োজন নেই। কারণ, আমার তৈরি উড়োজাহাজগুলো আমারই গবেষণার ফল। সরকারি সহযোগিতা পেলে এটি আরও বিশদ আকারে করতে পারব।’

আশিরের উদ্ভাবিত ব্যাটারিচালিত বোটের আধুনিকায়নের কাজ চলছে

শুধু উড়োজাহাজ নয়, আশির উদ্ভাবিত ওয়াটার বোট ও ড্রোন নজর কেড়েছে সবার। ব্যাটারিচালিত বোটের আরও আধুনিকায়নের কাজ চলছে। এছাড়া তার তৈরি ড্রোন দিয়ে দুর্গম ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ছবি তুলতে অথবা ফসলের ক্ষেতে কীটনাশক ছিটাতে ব্যবহার করা যাবে। ফায়ার সার্ভিসের আগুন নেভাতে, এমনকি জরুরি ওষুধ সরবরাহের কাজেও ব্যবহার করা যাবে আশির তৈরি ড্রোন।

যেকোনো উদ্ভাবনী কাজে আমরা উৎসাহ দিই। যারাই এ ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত, আমরা তাদের পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া চেষ্টা করি। আশির উদ্দিনের যদি কোনো সহযোগিতার দরকার হয়, প্রশাসন তার সামর্থ্যের মধ্যে সবকিছু করার চেষ্টা করবেইউএনও সাইদুজ্জামান চৌধুরী, বাঁশখালী

ছেলের এমন উদ্ভাবনী কাজে উৎসাহ দেন লবণ ব্যবসায়ী বাবা মো. শাহাবুদ্দিন। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই সে এসব নিয়ে পড়ে থাকত। আমরা তাকে বাধা দিতাম না। ইলেকট্রিক্যাল পণ্য খুলে নিমিষেই সে জোড়া দিতে পারত। আস্তে আস্তে সে ছোট ছোট বিমান ও রোবট তৈরিতে মনোযোগী হয়। এ ধরনের পণ্য তৈরিতে যে আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন, আমরা তা দিয়ে যাচ্ছি। তার স্বপ্ন এখন বৃহৎ পরিসরে কিছু করার। কিন্তু সেই সক্ষমতা তো আমাদের নেই। এজন্য সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন। আমরাও চাই সে যেন যথাযথ সুযোগ-সুবিধা পাক এবং দেশের জন্য তার মেধা কাজে লাগাক।

আশির এমন বৈচিত্র্যপূর্ণ উদ্ভাবন নিয়ে কথা হয় বাঁশখালী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইদুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে। তিনি বলেন, যেকোনো উদ্ভাবনী কাজে আমরা উৎসাহ দিই। যারাই এ ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত, আমরা তাদের পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া চেষ্টা করি। আশির উদ্দিনের যদি কোনো সহযোগিতার দরকার হয়, প্রশাসন তার সামর্থ্যের মধ্যে সবকিছু করার চেষ্টা করবে।

ইব্রাহিম/আওয়াজবিডি

কুমিল্লার মন্ডপে কোরআন রাখা ইকবাল সন্দেহে কক্সবাজারে আটক যুবককে নেয়া হচ্ছে কুমিল্লায়

আওয়াজবিডি ডেস্ক
২২ অক্টোবর ২০২১, দুপুর ১:৪৯ সময়

আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তাঁকে নিয়ে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে কুমিল্লার দিকে রওয়ানা হয়েছে পুলিশ।

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার সৈকত এলাকার সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে ইকবাল সন্দেহে ওই যুবককে আটক করা হয়। এরপর গতকাল রাতে তাঁকে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়।

কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করে জানান, বৃহস্পতিবার রাতে এক যুবক সৈকত এলাকায় ঘোরাফেরা করার সময় জেলা পুলিশের একটি দল ইকবাল সন্দেহে তাঁকে আটক করে। এরপর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে নিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

আজ শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে কুমিল্লা জেলা পুলিশের একটি দল কক্সবাজারে আসে। এরপর সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ইকবালকে কুমিল্লা জেলা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এরপরই কুমিল্লা জেলা পুলিশের ওই দল ইকবালকে নিয়ে কুমিল্লার পথে রওয়ানা দেয়।

এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে জানাবে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম।

এদিকে গতকাল পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) মোহাম্মদ শাহ জালাল স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ১৩ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৭টায় কুমিল্লার সদর থানাধীন নানুয়া দীঘির উত্তর পাড়ে দর্পণ সংঘের অস্থায়ী পূজামণ্ডপে মূর্তির পায়ের ওপর কে বা কারা পবিত্র কোরআন শরিফ রেখে চলে যায়।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কতিপয় স্বার্থান্বেষী দুষ্কৃতকারী উসকানিমূলক ও বিকৃত প্রচারণা চালায় এবং পরবর্তী সময়ে আরও উচ্ছৃঙ্খল দুষ্কৃতকারী সংঘবদ্ধ হয়ে মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুরের চেষ্টা ও পূজামণ্ডপে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ ছাড়া, দুষ্কৃতকারীরা শহরের কাপড়িয়া পট্টি কলোনির চানমনি পূজামণ্ডপ, শ্রী শ্রী রক্ষাকালী মন্দির, কালিতলাসহ আরও কয়েকটি পূজামণ্ডপে হামলা চালায় এবং প্রতিমায় অগ্নিসংযোগ করে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কুমিল্লার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে সেজন্য সারা দেশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বোচ্চ সতর্কতা এবং প্রচেষ্টা সত্ত্বেও দেশের বিভিন্ন স্থানে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে।

পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, কুমিল্লার ঘটনার জের ধরে গত ১৩ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টায় চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ পৌরসভার শ্রী ত্রিনয়নী সংঘ রাজা লক্ষ্মী নারায়ণ জিউর আখড়া, মোকিমাবাদ পূজামণ্ডপে ৫০০ থেকে ৬০০ দুষ্কৃতকারী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। পুলিশ তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করলে তারা পুলিশের ওপর হামলা করে এবং পাঁচ থেকে ছয়টি পূজামণ্ডপ ভাঙচুর করে।

দুষ্কৃতকারীদের ইট-পাটকেলের আঘাতে ১৫ জন পুলিশ সদস্য মারাত্মক আহত হয়। জনগণের জানমাল রক্ষায় এবং আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলিবর্ষণ করে। এ ঘটনায় পাঁচজন প্রাণ হারায়।

কুমিল্লার ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় গত ১৪ অক্টোবর বেলা ১১টা ২০ মিনিটে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নের সর্বজনীন শ্রী শ্রী দুর্গা পূজা মন্দিরের কাছে ৮০০ থেকে এক হাজার উচ্ছৃঙ্খল লোক জড়ো হয়ে উসকানিমূলক স্লোগান দিতে থাকে। একপর্যায়ে তারা অসংখ্য ইট, লাঠিসোটা নিয়ে মন্দিরের সামনে দায়িত্বরত ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ ও বিজিবির টহল দলের ওপর হামলা চালায়, মন্দিরের মূর্তি ভাঙচুর করে এবং মন্দিরে আগুন ধরিয়ে দেয়।

এ ঘটনায় একজন প্রাণ হারায় এবং পরে পুকুর থেকে আরেকজনের লাশ উদ্ধার করা হয় বলেও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গত ১৭ অক্টোবর রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বড় করিমপুর মাঝিপাড়া গ্রামের পরিতোষ (১৯) তাঁর ফেসবুক আইডিতে পবিত্র কাবা শরিফের অবমাননাকর ছবি আপলোড করেন। পরবর্তীতে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়।

এরপর রাত প্রায় ৮টার দিকে এলাকার কতিপয় দুষ্কৃতকারী ওই গ্রামের একটি মন্দিরসহ ১৮টি পরিবারের ঘরবাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়।

এ ছাড়া কক্সবাজারের পেকুয়া ও চকরিয়া উপজেলা, সিলেটের জকিগঞ্জ, মৌলভীবাজারের কুলাউড়া ও কমলগঞ্জ, হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ এবং গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুরসহ দেশের আরও কয়েকটি স্থানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

এ সব ঘটনায় সারা দেশে সাতজন প্রাণ হারায়। তার মধ্যে দুজন হিন্দু সম্প্রদায়ের এবং পাঁচজন মুসলিম সম্প্রদায়ের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দায়িত্ব পালনকালে ৫০ জন পুলিশ সদস্য আহত হন বলে জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সংঘটিত এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সারা দেশে গত মঙ্গলবার পর্যন্ত ৭২টি মামলা করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৪৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও মামলা রুজু প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং দুষ্কৃতকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।

ঘটনা/অপরাধের রহস্য উদঘাটনের জন্য থানা পুলিশের পাশাপাশি পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিটগুলোকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। দ্রুততার সঙ্গে ঘটনা/অপরাধের রহস্য উদঘাটনে প্রযুক্তি নির্ভর তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও উসকানি রোধকল্পে সাইবার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি রোধকল্পে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি এবং অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং সরকারের সব গোয়েন্দা সংস্থা সার্বক্ষণিকভাবে কড়া নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যেকোনো বিভ্রান্তিকর তথ্য অথবা গুজব কিংবা উসকানিতে বিভ্রান্ত বা উত্তেজিত না হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা এবং পরিস্থিতির উন্নয়নে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করার জন্য দেশের সব নাগরিকের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ।

হাবিব/আওয়াজবিডি/ইউএস