চলতি বছরই পৃথিবীর পাশ দিয়ে যাবে সাতটি বিশাল গ্রহাণু

আওয়াজবিডি ডেস্ক
১৩ অক্টোবর ২০২১, দুপুর ২:৫৬ সময়

নাসার সেন্টার ফর নেয়ার-আর্থ অবজেক্ট স্টাডিজের তথ্য বলছে, গত মাসে সন্ধান পাওয়া ২০২১ এসএমথ্রি নামের গ্রহাণুটি শুক্রবার পৃথিবীর কাছ দিয়ে যাবে। এ গ্রহাণুর ব্যাস সর্বোচ্চ ৫২৫ ফুট। অর্থাৎ পাথরখণ্ডটি গিজার পিরামিডের চেয়েও বড় হবে। এর সঙ্গে যদি পৃথিবীর সংঘর্ষ হয় তাতে পৃথিবীর যেখানে এটি আছড়ে পড়বে ওই অঞ্চলে কিছু ক্ষয়ক্ষতি হবে।

২০২১ এসএমথ্রিকে ‘নিয়ার আর্থ অবজেক্ট’ বলা হচ্ছে। নাসা বলছে, এগুলো ধূমকেতু বা পাথরখণ্ড যা কাছাকাছি কোনো গ্রহের মধ্যাকর্ষণ শক্তির কারণে পৃথিবীর কাছাকাছি নিজের কক্ষপথে ঘুরতে থাকে। পৃথিবী থেকে ১২০ মাইলের মধ্যে এ ধরনের যা কিছু আসে সেগুলোকেই ‘নিয়ার আর্থ অবজেক্ট’ বলা হচ্ছে।

২০২১ এসএমথ্রি যখন পৃথিবীর সবচেয়ে কাছ দিয়ে উড়ে যাবে, তখন পৃথিবীর সঙ্গে এর দূরত্ব হবে ৩৬ লাখ মাইলের মতো। শুনে হয়তো মনে হতে পারে, সে তো অনেক দূর দিয়ে যাবে। তাহলে, বিপদের সম্ভাবনা নেই। সেক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে শুক্র গ্রহের সঙ্গে পৃথিবীর দূরত্ব মোটামুটি ৭৪৮ লাখ মাইলের মতো হয়ে থাকে। দুই গ্রহের কক্ষপথের ওপর নির্ভর করে এ দূরত্ব কতটা হবে। অর্থাৎ শুক্রগ্রহের চেয়ে অনেক বেশি কাছ দিয়ে যাবে পাথরখণ্ডটি।

অল্প কিছুদিনের মধ্যেই পৃথিবীর কাছ দিয়ে উড়ে যাবে বিশালাকার এমন পাথরখণ্ডের মধ্যে এই ২০২১ এসএমথ্রিই একমাত্র পাথরখণ্ড নয়। নভেম্বরের মধ্যে এর চেয়ে বড় আরও সাতটি পাথরখণ্ড উড়ে যাবে পৃথিবীর আশপাশ দিয়ে।

এরমধ্যে সবচেয়ে কাছ দিয়ে যে পাথরখণ্ডটি উড়ে যাবে তার নাম রাখা হয়েছে ১৯৯৬ ভিবিথ্রি। অক্টোবরের ২০ তারিখে পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব থাকবে ২১ লাখ মাইলের মতো। এর ব্যস প্রায় ৭৫৪ ফুট।

এ দফায় পৃথিবীর আশপাশ দিয়ে যাবে এমন পাথরখণ্ডগুলোর মধ্যে যেটি সবচেয়ে বড় তার নাম রাখা হয়েছে ২০০৪ ইউই। এটির ব্যস ১ হাজার ২৪৬ ফুট পর্যন্ত। নভেম্বরের ১৩ তারিখে পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব থাকবে ২৬ লাখ মাইলের মতো।

সৌরজগতে এ ধরনের পাথরখণ্ডের সংখ্যা ২৭ হাজার ২৪টি। এগুলোর মধ্যে ৯ হাজার ৮৫৬টি পাথরখণ্ড অন্তত ৪৫৯ ফুট লম্বা। আর ৮৯০টি পাথরখণ্ড এক কিলোমিটার লম্বা বা তার চেয়ে বেশি লম্বা।

এ বছরে সবচেয়ে বড় যে পাথরখণ্ডটি পৃথিবীর কাছ থেকে উড়ে গেছে সেটির নাম ২০০১ এফওথার্টিটু। মোটামুটি ৩ হাজার ফুটের মতো চওড়া এ পাথরখণ্ডটি মার্চে পৃথিবী থেকে ১২ লাখ মাইল দূরত্বে উড়ে যায়।

এছাড়া অ্যাপোফিস নামে একটি গ্রহাণু নিয়ে এ বছর বেশ শোরগোল হয়েছিল। কেউ কেউ বলেছিলেন এটি পৃথিবীর সাথে ধাক্কা খাবে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলেন যে ,পরবর্তী ১০০ বছরের মধ্যে ওই গ্রহাণুর পৃথিবীর সঙ্গে সংঘর্ষের কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে ২০২৯ সালের ১৩ এপ্রিল এটি পৃথিবীর খুব কাছ দিয়ে যাবে। তখন পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব থাকবে মাত্র ২০ হাজার মাইল। সূত্র : ইউএসএ টুডে।

ইব্রাহিম/আওয়াজবিডি

দুর্গাপূজার মণ্ডপে সৃষ্ট ঘটনা নিয়ে কিছু প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ

আওয়াজবিডি ডেস্ক
২২ অক্টোবর ২০২১, দুপুর ৪:২৭ সময়

বাংলাদেশ পূজা উদযাপনপরিষদের সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জী সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কুমিল্লা নানুয়া দীঘিরপাড়ের মণ্ডপটি অস্থায়ী। ওই দিন দিবাগত রাত তিনটা থেকে চারটার দিকে কিছু সময়ের জন্য মণ্ডপ এলাকা বিদ্যুৎ–সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কী কারণে কিছু সময়ের জন্য মণ্ডপ বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল, সে বিষয়গুলো তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে কি না? থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হনুমান মূর্তির কোলের ওপর রাখা পবিত্র কোরআন শরিফটি সরিয়ে নেওয়ার পর কেন ভিডিও করার সুযোগ দিলেন এবং কেন সে ভিডিও ভাইরাল হয়েছে? এই বিষয়টি সবার কাছে বিরাট প্রশ্ন হিসেবে দেখা দিয়েছে।

নির্মল চ্যাটার্জী আরও বলেন, ‘দুর্গাপূজার আগে ৪ অক্টোবর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ৬ অক্টোবর ডিএমপি কমিশনার, পুলিশের মহাপরিদর্শকের সঙ্গে আমাদের মতবিনিময় হয়। প্রতিটি সভায় বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রত্যেকে স্ব-স্ব অবস্থানে থেকে মতামত দিয়েছেন প্রতিটি সভায় নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে আমাদের আশ্বস্ত করা হয়েছিল।’

বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের রামু থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিগত কয়েক বছর ধরে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে বা হচ্ছে। কোনো কোনো হামলার ক্ষেত্রে সর্বদলীয় অংশগ্রহণের ঘটনা ঘটেছে। দেশে আইন আছে। প্রকৃতই কোনো ব্যক্তি, সে যে ধর্মেরই হোক না কেন, এ ধরনের ন্যক্কারজনক অপরাধ করলে তাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে না দিয়ে একজনের কথিত অপরাধে একটি সম্প্রদায়ের ওপর হামলা প্রকারান্তরে এ দেশের হিন্দু সম্প্রদায়কে দেশান্তরি করার নীলনকশার অংশ বলে সাধারণ হিন্দুরা মনে করে।

বিচারহীনতা বা বিচার না হওয়ার সংস্কৃতি দুষ্কৃতকারীদের উৎসাহিত করছে এবং প্রায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতার মূল ঘটনাগুলো ঘটছে। লিখিত বক্তব্যে নির্মল চ্যাটার্জী বলেন, রাজনৈতিক দলের পারস্পরিক দোষারোপের কারণে প্রকৃত দোষীরা পার পেয়ে যাচ্ছে, যা দেশের আইনশৃঙ্খলা ও পারস্পরিক আস্থার জন্য সুখকর নয়।

সাম্প্রতিক হামলায় সম্পদের যে ক্ষতি হয়েছে, তা পূরণে এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের পূর্ণ নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষার জন্য কয়েকটি দাবি করা হয় আজকের সংবাদ সম্মেলনে। ক্ষতিগ্রস্ত সব মন্দির–বাড়িঘর সরকারি খরচে নির্মাণের দাবি করা হয়। নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ব্যবস্থা নিতে দাবি করা হয়।

হাবিব/আওয়াজবিডি/ইউএস