পূজামণ্ডপে নাচলেন নায়ক ফেরদৌস

আওয়াজবিডি ডেস্ক
১৩ অক্টোবর ২০২১, দুপুর ২:০৬ সময়

মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) রাতে নারায়ণগঞ্জের একটি পূজামণ্ডপে যান ফেরদৌস। তার সঙ্গে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া। তিনিও ফেরদৌসের নাচ উপভোগ করেছেন।

পূজা পরিদর্শন করে স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন ফেরদৌস। তিনি বলেন, ‘এখানে এসেই আমি খুব আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছি। আমার সেই ছোট বেলার স্মৃতিতে চলে গিয়েছিলাম। বিশ্বাসই হচ্ছিল না আমি আজকে নারায়ণগঞ্জ আসবো। আমার বন্ধু ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়াকে ধন্যবাদ। আসলে ও মাঝে মাঝে এমন সব কাজ করে আমি বিস্মিত হয়ে যাই।’

নারায়ণগঞ্জকে প্রাণের শহর উল্লেখ করে ফেরদৌস বলেন, ‘আমার ছোট বেলার শহর। অত্যন্ত প্রাণের শহর। আমার বেড়ে ওঠার সঙ্গে আজকে আমি ফেরদৌস হওয়ার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে এই শহর। কারণ শিল্প-সংস্কৃতির দিক দিয়ে নারায়ণগঞ্জ অনেক ধনী। নারায়ণগঞ্জের মানুষ ভীষষ সংস্কৃতমনা। আমি নিজেও ছোটবেলায় বুঝতাম না হিন্দু, মুসলমানের কী তফাৎ। ঈদে আমার হিন্দু বন্ধুরা আমাদের বাড়িতে আসত পূজায় আমরা তাদের বাড়িতে যেতাম। আমরা বিশ্বাস করি ধর্ম যার যার উৎসব সবার।’

এদিকে ফেরদৌস বর্তমানে সিনেমার কাজেও ব্যস্ত সময় পার করছেন। তার হাতে ৮টি সিনেমার কাজ রয়েছে। এর মধ্যে শেষ করেছেন ‘বিউটি সার্কাস’, ‘যদি আরেকটু সময় পেতাম’ ও ‘হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি’ সিনেমাগুলো। এছাড়া অভিনয় করেছেন নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামুলের ‘গাঙচিল’ ও ‘জ্যাম’; হৃদি হকের ‘১৯৭১ সেইসব দিন’ ইত্যাদি সিনেমায়।

ইব্রাহিম/আওয়াজবিডি

যেভাবে আটক হল আলোচিত যুবক ইকবাল হোসেন

আওয়াজবিডি ডেস্ক
২২ অক্টোবর ২০২১, দুপুর ৪:২৪ সময়

ছাত্রলীগ কর্মী ও চৌমুহনী সরকারি এসএ কলেজের ব্যবস্থাপনা বিষয়ের মাস্টার্সের ছাত্র অনিক রহমান দাবি করেন, ‘আমি ও বন্ধু মেহেদী হাসান মিশু এবং সাইফুল ইসলাম সাইফ মিলে ইকবালকে ধরিয়ে দিয়েছি।’ ওই তিনজনকে ছাত্রলীগের কর্মী বলে নিশ্চিত করেছেন নোয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আসাদুজ্জামান।

এদিকে ছাত্রলীগ কর্মীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লা ও কক্সবাজার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে ইকবালকে ধরা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন নোয়াখালীর (বেগমগঞ্জ সার্কেল) এএসপি শাহ ইমরান। তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ছাত্রলীগ কর্মী অনিক ও মিশু আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে ইকবালের তথ্য দেন। তারা ইকবালকে ধরিয়ে দিতে সহায়তা চান। পরে আমি কুমিল্লা ও কক্সবাজারের পুলিশের সঙ্গে ইকবালকে গ্রেপ্তারের জন্য যোগাযোগ করি।’

ইকবালকে গ্রেপ্তারের ঘটনা বলতে গিয়ে ছাত্রলীগ কর্মী অনিক বলেন, ‘গত ১৯ অক্টোবর রাতে বন্ধু মেহেদি হাসান মিশু ও ঢাকার তিন ব্যবসায়ী বন্ধু রায়হান, মামুন ও হৃদয়সহ পাঁচজন কক্সবাজার বেড়াতে যাই। বৃহস্পতিবার সকালে সেখানে থাকা আরেক বন্ধু সাইফুল ইসলাম সাইফ আমাদের সঙ্গে যোগ দেন। এরপর বিকাল ৪টায় দরিয়ানগরে ঘুরতে বের হই। সেখানে ছয় বন্ধু মিলে সময় কাটাতে গান গাওয়ার সময় ইকবালও পাশে এসে গানে সুর মেলায়। এরপর ওই রাতে টেলিভিশনে এবং ফেসবুকে ছবি দেখে ইকবালের বিষয়ে নিশ্চিত হই।’

এসএ কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র এবং ছাত্রলীগ কর্মী মেহেদী হাসান মিশু বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতে তারা সুগন্ধা পয়েন্টে গেলে ইকবালের সঙ্গে তাদের আবার দেখা হয়। তখন আমরা তার সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলি। এক পর্যায়ে সে পালিয়ে যেতে চাইলে, তাকে নাস্তা ও সিগারেট খাইয়ে কৌশলে আটকে রাখি। এ সময় তার নাম জানতে চাইলে, সে ইকবাল বলে জানায়।

তখন আমরা কৌশলে তার ছবি তুলি নোয়াখালীর এএসপির সঙ্গে যোগাযোগ করি ও ছবি পাঠাই। তিনি আমাদের কুমিল্লার পুলিশ সুপারের মোবাইল নম্বর দেন। এরপর কুমিল্লার পুলিশ সুপারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ছবি পাঠাই। তিনি কক্সবাজারের পুলিশ সুপারকে বিষয়টি অবহিত করেন। পরবর্তীতে রাত সাড়ে ১০টায় পুলিশ এসে ইকবালকে আটক করে নিয়ে যায়।’

এর আগে, কুমিল্লার পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রাখার ঘটনায় ১৬ মিনিট ৫২ সেকেন্ডের একটি সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজ গণমাধ্যমের কাছে আসে। সেখানে দেখা যায়, অভিযুক্ত ইকবাল হোসেন মসজিদ থেকে কীভাবে কোরআন নিয়ে বের হয়ে পূজামণ্ডপের দিকে যান এবং মণ্ডপ থেকে হনুমানের গদা হাতে নিয়ে ফেরেন।

হাবিব/আওয়াজবিডি/ইউএস